সম্মানিত সুমহান ক্বওল শরীফ

-হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

نَـحْمَدُهٗ وَنُصَلِّىْ وَنُسَلِّـمُ عَلـٰى رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ وَعَلـٰى وَالِدَىْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَضْرَتْ اُمَّهَاتِ الْـمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهِنَّ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اَهْلِ بَيْتِهِ الْكَرِيْمِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

খলিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিটি সৃষ্টিই বিস্ময়কর। মহান আল্লাহ পাক উনার অন্যতম সৃষ্টি হচ্ছে ‘সময়’। এই সময় সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
تِلْكَ الْاَيَّامُ نُدَاوِلُـهَا بَيْنَ النَّاسِ
অর্থ : “আমি সময়কে মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঘুরিয়ে থাকি।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪০)

সময় মানুষের জীবনে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার বিভিন্ন আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে সময়ের কসম করে সময়ের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। আবার মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সময়ের হিসাব রাখার সুবিধার্থে সৃষ্টি করেছেন চাঁদ ও সূর্য। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّـهَارَ‌ اٰيَتَيْنِ. فَمَحَوْنَا اٰيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا اٰيَةَ النَّـهَارِ‌ مُبْصِرَ‌ةً لّتَـبْتَغُوْا فَضْلًا مّن رَّ‌بّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السّنِينَ وَالْـحِسَابَ. وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَـفْصِيلًا
অর্থ : “আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর নিস্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের যিনি মহান রব তায়ালা উনার অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো এবং যাতে তোমরা জানতে পারো বছরসমূহের সংখ্যা ও হিসাব এবং আমি সব বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।” (পবিত্র সূরা বনী ইসরাঈল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২)

এখন মুসলমান উনারা চাঁদের ঘূর্ণয়ন সাপেক্ষে যেমন বছর গণনা করতে পারেন তেমনি সূর্যের ঘূর্ণয়ন সাপেক্ষেও বছর গণনা করতে পারেন। কিন্তু বড় আফসোসের বিষয় মুসলমান উনাদের চাঁদের ঘূর্ণয়ন সাপেক্ষে হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুসরণের সুযোগ থাকলেও মুসলমান উনারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ গাফিল। আর সূর্যের ঘূর্ণয়ন সাপেক্ষে মুসলমান উনারা যে বছর গণনা করছেন সেটা সম্পূর্ণরূপে কাফিরদের অনুসরণ হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِ‌يْنَ وَالْمُنَافِقِيْنَ
অর্থ : “তোমরা কাফির ও মুনাফিক্বদের অনুসরণ অনুকরণ করো না।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১ ও ৪৮)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَمرِو بْنِ شُعَيْبِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدّهٖ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَتَشَبَّهُوْا بِالْيَهُوْدِ وَلا بِالنَّصَارٰى
অর্থ : “তাবিয়ী হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা হতে তিনি উনার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। কাজেই আপনারা ইয়াহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবেন না।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ ৩৯৯ পৃষ্ঠা)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (আবূ দাঊদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)

আবার মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِهْدِنَا الصّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ◌ صِرَاطَ الَّذِيْنَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالّيْنَ ◌
অর্থ : “আমাদেরকে সঠিক সরল পথে পরিচালিত করুন। আপনি যাঁদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন উনাদের পথে, তাদের পথ দিবেন না যারা গযবপ্রাপ্ত ও বিভ্রান্ত।” (পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬,৭)

কাজেই বছর গণনা ক্ষেত্রেও মুসলমান উনাদের কোনভাবেই উচিত নয় কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করা। আর মুসলমান উনাদেরকে গযবপ্রাপ্ত ও বিভ্রান্ত কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ হতে উদ্ধারের জন্য রচনা করা হয়েছে সূর্যের ঘূর্ণয়ন সাপেক্ষে মুসলমান উনাদের জন্য অনুসরণীয় বর্ষপঞ্জি “আত্ব তাক্বউইমুশ শামসী”। যা প্রত্যেক মুসলমান উনাদের জন্য অনুসরণ করা ফরয। মহান আল্লাহ পাক তিনি “আত তাক্বউইমুশ শামসী” কবুল করুন এবং সারা বিশ্বে এই বর্ষপঞ্জির ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটিয়ে দিন। এর মাধ্যমে মুসলমান উনাদের ঈমান, আমল ও আক্বীদা হিফাযত করুন। আমীন।